জাতির ক্রান্তিলগ্নে আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী (রহ.) অফাত বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি করবে। এই দুর্সময়ের বটবৃক্ষের শূন্যস্থান পূর্ণ হবার নয়। হজরতের মৃত্যু মানতে কষ্ট হচ্ছে, তবোও মেনে নিতে হবে। কারন বিধাতার নীতি মানতে হবে বাধ্যতামূলক।
আল্লামা বাবুনগরী ইসলামি আন্দোলনের নির্ভীক লিডার ছিলেন,কখনো আপোষ করেনি। তিনি একায় একজন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন ছিলেন।
তিনি বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি আলেমেদ্বীন ছিলেন, দেশের ইসলাম ও মুসলমানদের একজন যোগ্য রাহাবার ছিলেন, হাদিসের ধরেছে তিনি হাজার হাজার ছাত্রদের মাঝে ইলমে নবীর সুধা বিতরণ করা যোগ্য মুহাদ্দিস। নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে একজন জ্বালাময়ী কণ্ঠের প্রতিবাদী আলেম ছিলেস। ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং বীরের মত নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৩ সালে দেশের তাওহিদবাদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার পিছনে বাবুনগরী (রহ.) এর ভুমিকা অতুলনীয়। সে সময়ে শাহবাগের নাস্তিক-মুরতাদের আস্ফালনের বিরুদ্ধে আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা হেফাজতে ইসলামের বলিষ্ঠ আন্দোলনের কারণে শাহবাগ থেকে নাস্তিক-মুরতাদ ব্লগাররা লেজ গুটাতে বাধ্য হয়েছিলো, এই আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন আল্লামা বাবুনগরী (রহ.)। তিনি ২০১৩ সালের ৬ ই মে গ্রেফ্তার হন এবং ২২ দিন রিমান্ডে ছিলেন।
তার নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম আন্তর্জাতিক মানের সংগঠন হিসাবে আবির্ভূত হন। হেফাজতের সূচনালগ্নে মহাসচিবের দায়েত্ব পান এবং আল্লামা আহমদ শফি রহ.-এর মৃত্যুর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে হেফাজতের আমির নির্বাচিত হন এবং আমৃত্যু হেফাজতে ইসলামের আমীরের দায়েত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের সকল আলেম উলামাদের জন্য বট বৃক্ষের ছায়া হয়েছিলেন।তিনি আল্লামা শফী রহ. এর বিশ্বস্ত সাগরেদ এবং আল্লামা মুফতী আমিনী রহ. এর সহযোদ্ধা ও হাতিয়ার ছিলেন।
হে আল্লাহ আপনি আপনার বান্দাকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।